Admin No Comments

মাইক্রোসফট এর লেটেস্ট উইন্ডোজ ওএস, উইন্ডোজ ১০ সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। মাইক্রোসফট এর ভাষ্যমতে উইন্ডোজ ১০ হচ্ছে তাদের তৈরি সর্বশেষ এবং সবথেকে ভালো এবং সবথেকে ফিকারপ্যাকড উইন্ডোজ ভার্সন। উইন্ডোজ ১০ রিলিজের পরে থেকে মাইক্রোসফট এই উইন্ডোজ ভার্সনকে বেজ করে অনেক ধরনের প্ল্যান প্রোগ্রাম, অনেক ধরনের ফিচার ইমপ্রুভমেন্ট আপডেট এবং আরো বিভিন্ন ধরনের প্রজেক্ট হাতে নেয়। যেমন- রিসেন্টলি মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ১০ এর জন্য একটি নতুন প্রজেক্ট হাতে নেয় যেটির নাম উইন্ডোজ ১০ অন ARM। তবে উইন্ডোজ ১০ নিয়ে মাইক্রোসফট এর এটিই একমাত্র প্রজেক্ট নয়। উইন্ডোজ ১০ নিয়ে মাইক্রোসফট এর আরো একটি প্রজেক্টের নাম হচ্ছে, উইন্ডোজ ১০ এস (Windows 10 S)। আপনি যদি কখনো ক্রোমবুক ব্যাবহার করে থাকেন অথবা গুগলের ক্রোম ওএস সম্পর্কে জেনে থাকেন, তাহলে আপনি উইন্ডোজ ১০ এস এবং উইন্ডোজ ১০ এসের উদ্দেশ্য সম্পর্কেও বুঝবেন। আজকে মাইক্রোসফট এর এই আরেকটি উইন্ডোজ ভার্সন, উইন্ডোজ ১০ এস নিয়েই আলোচনা করবো।

উইন্ডোজ ১০ এস

এই প্রজেক্টটি মাইক্রোসফট এর নতুন কোনো প্রজেক্ট না। মাইক্রোসফট তাদের এই নতুন উইন্ডোজ ১০ ভার্সনের ব্যাপারে গত ২০১৭ এর মাঝামাঝি সময়ে এনাউন্স করে। আর এই ভার্সনটি কনজিউমারদের কাছে উইন্ডোজ ১০ ফল ক্রিয়েটরস আপডেটের সাথেই আরেকটি ভার্সন চয়েজ বা বিল্ড চয়েজ হিসেবে রিলিজ করা হয়। উইন্ডোজ ১০ হচ্ছে মূলত মাইক্রোসফট এর তৈরি সাধারণ উইন্ডোজ ১০ এর একটি লাইটওয়েট ভার্সন। লাইটওয়েট বলতে, এই উইন্ডোজ ভার্সনে কোনো ধরনের থার্ড পার্টি Win32 অ্যাপ বা প্রোগ্রাম চলব না। শুধুমাত্র উইন্ডোজ স্টোরে থাকা সকল ইউনিভার্সাল উইন্ডোজ ১০ অ্যাপ চলবে। যারা ইউনিভার্সাল অ্যাপ চেনেন না, তারা জেনে নিন, উইন্ডোজ ১০ এ উইন্ডোজ স্টোরে গিয়ে আমরা যেসব অ্যাপ ডাউনলোড করি এবং ইনস্টল করি সেগুলো শুধুমাত্র উইন্ডোজ ১০ ডিভাইসগুলোর জন্য বিশেষভাবে ডেভেলপ করা এবং এগুলোকেই বলা হয় উইন্ডোজ ইউনিভার্সাল অ্যাপ বা UWP অ্যাপ। আর টিপিক্যাল Win32 অ্যাপ হচ্ছে সেই ধরনের অ্যাপ যেগুলো আমরা উইন্ডোজ স্টোর থেকে ডাউনলোড না করে অন্যান্য সোর্স থেকে ডাউনলোড করি এবং সবথেকে বেশি ব্যাবহার করি। যেমন- গুগল ক্রোম, ফায়ারফক্স, অ্যাডোব ফটোশপ, ইউটরেন্ট ইত্যাদি। এছাড়া আমরা পিসিতে বা ল্যাপটপে যেসব গেমস খেলি সেগুলোর ৯৯% গেম হচ্ছে Win32 প্রোগ্রাম। উইন্ডোজ ১০ এস ভার্সনে এই ধরনের কোনো Win32 প্রোগ্রাম চলবে না। এর কয়েকটি ভালো দিক বা সুবিধা এবং কিছু খারাপ দিক বা অসুবিধাও আছে। সেগুলোর ব্যাপারে নিচে আলোচনা করছি।

উইন্ডোজ ১০ এস

উইন্ডোজ ১০ এস সুবিধা এবং অসুবিধা

প্রথমে অসুবিধার কথাই বলি। অসুবিধা কি কি হবে সেটা আপনি এতক্ষণে হয়ত ধারণা করতেই পেরেছেন। যেহেতু কোনো ধরনের Win32 প্রোগ্রাম চলছে না, তাই আপনি নিত্য প্রয়োজনীয় অনেক ধরনের প্রোগ্রামই ব্যাবহার করতে পারবেন না। যেমন, আমি যখনই ডেস্কটপ বা ল্যাপটপে উইন্ডোজ ইনস্টল করি, আমার প্রথম কাজ হয় উইন্ডোজ ভার্সনটি আপগ্রেড করা এবং তারপরই গুগল ক্রোম ডাউনলোড করা এবং ইনস্টল করা। কারণ, গুগল ক্রোম আমার প্রাইমারি ব্রাউজার। কিন্তু আমি যদি উইন্ডোজ ১০ এস ব্যাবহার করি তাহলে আমি গুগল ক্রোম ইনস্টল করতে পারবো না। কারণ, গুগল ক্রোম একটি Win32 প্রোগ্রাম। এটি উইন্ডোজ স্টোরের কোনো ইউনিভার্সাল অ্যাপ না। ধরলাম, গুগল তাদের ক্রোম ব্রাউজারটি মাইক্রোসফট উইন্ডোজ স্টোরে রিলিজ করলো ইউনিভার্সাল অ্যাপ হিসেবে। কিন্তু সেখানেও আরেকটি অসুবিধা থেকে যায়। উইন্ডোজ ১০ এস ব্যাবহার করলে আমি গুগল ক্রোমকে আমার ডিফল্ট ইন্টারনেট ব্রাউজার হিসেবে সেট করতে পারবোনা। উইন্ডোজ ১০ এস ব্যাবহার করলে আমাকে ডিফল্ট ব্রাউজার হিসেবে সবসময়ের জন্যই মাইক্রোসফট এজ ব্রাউজার ব্যাবহার করতে হবে। এবং এমনকি আমি অভ্র কিবোর্ড ইনস্টল করে বাংলা টাইপ করতেও পারবোনা। এতক্ষণে নিশ্চই বুঝতে পেরেছেন যে উইন্ডোজ ১০ এস ব্যাবহার করলে কোনো ধরনের অ্যাডভান্সড লেভেলের কাজ করা যাবেনা যেগুলোর জন্য Win32 প্রোগ্রামের দরকার হয়।

কিন্তু উইন্ডোজ ১০ এসের এত বড় একটি ডিসঅ্যাডভান্টেজ থাকা সত্ত্বেও উইন্ডোজ ১০ এসের সবকিছুই খারাপ এমনটা কিন্তু নয়। এবার আলোচনা করা যাক উইন্ডোজ ১০ এসের কয়েকটি ভালো দিক নিয়ে। ভালো দিক নিয়ে বলতে হলে প্রথমেই বলতে হবে উইন্ডোজ ১০ এসের সিকিউরিটির ব্যাপারে। যেহেতু উইন্ডোজ ১০ এস-এ আপনি মাইক্রোসফট স্টোরের বাইরের কোন অ্যাপ বা কোন প্রোগ্রাম ইন্সটল করতে পারছেন না, তাই আপনাকে উইন্ডোজ ১০ এস চালিত ডিভাইসে ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার বা ব্লোটওয়্যার এই ধরনের অনাকাঙ্খিত কোন খারাপ জিনিসের দেখা পাবেন না। কারন, ঠিক গুগল প্লে স্টোরের মত মাইক্রোসফট স্টোরে থাকা সকল অ্যাপ এবং সকল গেমস ১০০% সেফ এবং মাইক্রোসফট নিজেই এটা নিশ্চিত করে। মাইক্রোসফট স্টোরে আপনি প্রয়োজনীয় সকল Win32 অ্যাপস পাবেন না, তবে যেগুলো পাবেন সেগুলো ১০০% নিরাপদ এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। এরপরে উইন্ডোজ ১০ এসের যে ভালো দিকটি আছে সেটি হচ্ছে সাধারন ল্যাপটপ/ডেস্কটপের থেকে আরও ভালো পারফরমেন্স।

উইন্ডোজ ১০ এস চালিত একটি ডিভাইস একই কনফিগারেশনে সাধারন উইন্ডোজ ১০ চালিত ডিভাইসের থেকে আরও ফাস্ট হবে এবং আরও বেশি স্মুথ কাজ করবে। কারন, উইন্ডোজ ১০ এস চালিত ডিভাইসে যা করা হবে সবকিছুই মাইক্রোসফট এর তত্ত্বাবধায়নে থাকবে। আপনার ওএস এবং আপনার ইন্সটল করা সকল ইউনিভারসাল অ্যাপস এবং সার্ভিসের ওপরে মাইক্রোসফট এর সম্পূর্ণ কন্ট্রোল থাকবে। এছাড়া উইন্ডোজ স্টোরে যেসব ইউনিভারসাল অ্যাপস আছে সেগুলো বিশেষভাবে উইন্ডোজ ১০ ওএস এ রান করার জন্যই করা এবং অন্যান্য অ্যাপসের থেকে অনেক বেশি অপটিমাইজড। তাই এগুলো অনেক Win32 প্রোগ্রামের মত আপনার ডিভাইসকে দিনদিন স্লো করে দেবেনা। আর এর ফলে আরও যে সুবিধাটি পাবেন তা হচ্ছে ব্যাটারি লাইফ। আপনি যদি আপনার ল্যাপটপে উইন্ডোজ ১০ ইন্সটল না করে উইন্ডোজ ১০ এস ইন্সটল করেন, তবে আপনি কমপক্ষে আগের তুলনায় দিগুন ব্যাটারি ব্যাকআপ পাবেন।


তো এই ছিল মাইক্রোসফট এর উইন্ডোজ ১০ এস। এতক্ষনে নিশ্চই বুঝতে পেরেছেন যে মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ১০ এসের সাহায্যে গুগলের ক্রোম ওএস বা ক্রোমবুকের সাথে প্রতিযোগিতা করতে চেয়েছে। কারন, এই দুটি কাস্টোমাইজড ওএসদুটি প্রায় একই উদ্দেশ্যে তৈরি করা। যারা তাদের প্রত্যেকদিনের প্রায় সব কাজ ইন্টারনেট এবং ব্রাউজারের মধ্যেই করে থাকেন এবং যারা মাইক্রোসফট অফিস প্রোগ্রাম যেমন ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ারপয়েন্ট ইত্যাদির কাজ বেশি করে থাকেন তাদের জন্য উইন্ডোজ ১০ এর পরিবর্তে উইন্ডোজ ১০ এস ভালো একটি চয়েজ হতে পারে। তবে আপনি যদি আমার মত বা আমাদের সবার মত Win32 প্রোগ্রাম ব্যবহার করে থাকেন এবং ল্যাপটপ বা ডেস্কটপে হাই এন্ড গেমস খেলে থাকেন, তাহলে উইন্ডোজ ১০ এস আপনার জন্য একেবারেই নয়।


আজকের মত এখানেই শেষ করছি। আশা করি আজকের আর্টিকেলটি আপনাদের ভালো লেগেছে। কোন ধরনের প্রশ্ন বা মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্ট সেকশনে জানাবেন।